
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে চাঁদাবাজি, দখলদারি, অস্ত্রবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে টেলিভিশন কার্যালয়ে হামলা, ব্যাংক দখলচেষ্টা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে প্রমাণিত নয় এবং নয়নের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার বা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সময় টিভির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় নয়নের নেতৃত্বের অভিযোগ প্রকাশ করেছে ড্রিকনিউজ। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তৎকালীন এক পরিচালকের কাছে ২ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন।
এর কিছুদিন পর ইসলামী ব্যাংক ঘিরেও নয়নের নাম আলোচনায় আসে। ১১ আগস্ট ২০২৪ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এক প্রতিবেদনে তাঁকে ব্যাংক দখলচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনায় নয়নসহ চারজনের নামে মামলা হয় বলেও জাগো নিউজ জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়েও নয়নের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রকাশ্যে দাবি করেন, নয়ন যে পরিমাণ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি করেছেন, সেই অর্থ দিয়েও গণভোট আয়োজন সম্ভব। এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর’ দাবি করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করেন এক যুবদল নেতা। আদালত অভিযোগটি তদন্তে ডিবিকে নির্দেশ দেয়।
এ ছাড়া নয়নের বিরুদ্ধে জমি দখল, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদা দাবির অভিযোগও বিভিন্ন মহলে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নথি বা চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবু ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যদি বারবার চাঁদাবাজি, দখল কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগের মুখে পড়েন, তাহলে সেসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?
রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না। একইভাবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কাউকে অপরাধীও ধরে নেওয়া যায় না। তাই নয়নের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগের স্বচ্ছ, স্বাধীন ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তই নির্ধারণ করতে পারে কোন অভিযোগের সত্যতা কতটুকু।
সূত্র: প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, জাগো নিউজ, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, ড্রিকনিউজ।